মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ জুলাই ২০১৮

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সেল

 

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বিষয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

 

প্রশ্নঃ ন্যাশনাল সার্ভিস কি?

উঃ ন্যাশনাল সার্ভিস সরকারের উচ্চ-অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি কর্মসূচি যার মাধ্যমে একজন শিক্ষিত বেকার যুবক/যুবমহিলা জাতিগঠনমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে ২ বছর মেয়াদী অস্থায়ী কর্মসংস্থান লাভ করে। এ কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট যুবক ও যুবমহিলাদের কর্মমেয়াদ শেষে জীবন গড়ার জন্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে থাকে।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির টার্গেট গ্রুপ কারা?

উঃ শিক্ষিত বেকার যুবক/যুবমহিলা।

প্রশ্নঃ ন্যাশনাল সার্ভিসে অন্তর্ভূক্তির জন্য কি যোগ্যতা থাকা দরকার?

উঃ একজন যুবক/যুবমহিলাকে উচ্চ মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষগত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে এবং তার বয়স হতে হবে ২৪-৩৫ বছর।

প্রশ্নঃ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির পটভূমি কি?

উঃ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাসত্মবায়নের জন্য শিক্ষিত বেকার যুবদের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির  লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির অধীনে একজন শিক্ষিত বেকার যুবক/যুবহিলাকে নীতিমালা অনুযায়ী ১০টি নির্ধারিত মডিউলে ৩ মাস প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণোত্তর তাকে ২ বছর মেয়াদী অস্থায়ী কর্মসংস্থান দেয়া হয়। প্রত্যেক যুবক/যুবমহিলা প্রশিক্ষণকালীন দৈনিক ১০০/- টাকা এবং কর্মকালীন দৈনিক ২০০/- টাকা হারে ভাতা প্রাপ্য হবেন। এ কর্মসূচি শিক্ষিত বেকার যুবদের জাতিগঠনমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণের একটি উল্লেখযোগ্য প্রক্রিয়া। কর্মসূচির প্রশিক্ষণ ও অস্থায়ী সংযুক্তির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একজন যুবক/যুবমহিলা কর্ম-সমাপনান্তে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে সক্ষম হবেন।

 

প্রশ্নঃ কর্মসূচির মূল কাজ কি কি?

উঃ কর্মসূচির মূল কাজ হচ্ছে লক্ষভুক্ত যুবদের ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রশিক্ষণোত্তর তাদেরকে জাতিগঠনমূলক কর্মকান্ডে ২ বছরের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান প্রদান।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কি?

উঃ কর্মসূচির ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণকে মৌলিক প্রশিক্ষণ বলা হয়। মৌলিক প্রশিক্ষণে ১০টি নির্ধারিত মডিউল রয়েছে।

মডিউলগুলো হচ্ছে-

১।

জাতি গঠনমূলক ও চরিত্র গঠনমূলক প্রশিক্ষণ মডিউল।

১-৪ নং মডিউল ১ম দেড়মাস

২।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবামূলক প্রশিক্ষণ মডিউল।

মেয়াদে সকলের জন্য

৩।

মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ মডিউল।

 

৪।

আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ মডিউল।

 

৫।

সরকারের বিভিন্ন সেবাখাত সম্পর্কে ধারণা মডিউল।

 

৫-১০ নং মডিউল দ্বিতীয় দেড়মাস সংশ্লিষ্ট

সেবাখাতে নিয়োগে আগ্রহীদের জন্য।

৬।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডিউল।

৭।

শিক্ষা ও শারিরীক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডিউল।

৮।

কৃষি বন ও পরিবেশ বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডিউল।

৯।

জননিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা সংক্রান্ত মডিউল।

১০।

ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সেবা কার্যক্রম সংক্রান্ত মডিউল।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির অস্থায়ী কর্মসংস্থান কি?

উঃ কর্মসূচির অস্থায়ী কর্মসংস্থান সাময়িক যার মেয়াদ মাত্র ২ বছর। মেয়াদ শেষে সংশ্লিষ্ট যুবক বা যুবমহিলার অস্থায়ী কর্মসংস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাপ্ত হবে। এটি কোন সরকারী চাকুরী নয়। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট যুবক ও যুবমহিলাগণ সংযুক্তি প্রাপ্তির মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে সেবাদান করে থাকে। উল্লেখ্য যে  প্রশিক্ষণের পর অস্থায়ী সংযুক্তি প্রাপ্তির পূর্বে প্রশিক্ষিত যুবদেরকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়।

প্রশ্নঃ অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রসমূহ  কি কি?

উঃ অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রসমূহ নিমণরূপঃ

 

ক)

 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণিতে পাঠদানের কাজে;

খ)

যে সকল স্কুলে কম্পিউটার কোর্স চালু আছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজে;

গ)

জননিরাপত্তা,জনসম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রাফিক আইন এবং মৌলিক আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য কম্যুনিটি পুলিশ হিসেবে;

ঘ)

স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতষ্ঠিানসমূহ যেমনঃ হাসপাতাল, ক্লিনিক ইত্যাদি স্থানে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের সহায়তা প্রদানের কাজে সংযুক্তি;

ঙ)

কৃষিঋণ প্রাপ্তিতে কৃষককে সহায়তা প্রদানের কাজে এবং সরকারের অন্যান্য সংস্থার ঋণ প্রাপ্তিতে সাধারণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানের কাজ;

চ)

উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরা ও অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানে ভেজাল প্রতিরোধে নজরদারি কর্মকান্ডে সহায়তার কাজে; 

ছ)

গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক ও যুবমহিলাদেরকে আত্মকর্মসংস্থানের কাজে সহায়তা করা;

জ)

কৃষি সংক্রান্ত তথ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের মধ্যে আদান প্রদানের কাজে, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত তথ্য কৃষকদের নিকট পৌঁছানোর কাজে এবং সার, বীজ, ডিজেল সংক্রান্ত সরকারী সিদ্ধামত্ম বাস্তবায়নে সহযোগিতার কাজে;

ঝ)

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টি তথ্য প্রচার এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার ও পুনর্বাসনে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা সেবা প্রদান;

ঞ)

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া কর্মকান্ড উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদিতে সহায়তা প্রদান;

ট)

পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নার্সারীতে চারা উত্তোলনের জন্য বীজ সংগ্রহ, চারা উত্তোলন,চারা রোপন,বাগান সৃজন ইত্যাদি কাজে সহায়তা প্রদান;

ঠ)

বয়স্কভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে সহায়তা প্রদান এবং

ড)

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক যে সব অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় সেগুলোর তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজে সহায়তা প্রদান।

 

উপরোক্ত ক্ষেত্র ছাড়াও স্থানীয় প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক ও যুবমহিলাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত করা যাবে। যে সকল দপ্তর/ সংস্থা এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত যুবদেরকে সংযুক্তি/ পদস্থাপন করা হবে সে সকল প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানেই নিয়োজিত যুবরা কাজ করবেন।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির আর্থিক সুবিধা কি কি?

উঃ প্রশিক্ষণকালীন একজন যুবক/যুবমহিলা দৈনিক ১০০/- টাকা হরে প্রশিক্ষণভাতা এবং কর্মকালীন একজন যুবক/যুবমহিলা দৈনিক ২০০/- টাকা হরে কর্মভাতা প্রাপ্য হবেন।

 

প্রশ্নঃ কর্মসূচি হতে একজন যুবক/ যুবমহিলা  অন্য কি কি সুবিধা পেয়ে থাকে?

উঃ অন্যান্য সুবিধাদির মধ্যে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার সনদ লাভ এবং বাধ্যতামূলক সঞ্চয় করার সুযোগ পাবে।

 

প্রশ্নঃ কর্মসূচিতে কোন সঞ্চয়ের বিধান আছে কি? বিধান থাকলে তার চিত্র কি?

উঃ বিধান রয়েছে। বিধান অনুযায়ী একজন যুবক/যুবমহিলা মাসিক মোট কর্মভাতা ৬০০০/- টাকার মধ্যে ২০০০/- টাকা বাধ্যতামূলকভাবে তার ব্যাংক হিসাবে সঞ্চয় করবেন যা ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ফেরত পাবেন।

 

প্রশ্নঃ এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্তির জন্য কোন ফি জমা দিতে হয় কি না?

উঃ না।

 

প্রশ্নঃ কর্মসূচির প্রশিক্ষণ আবাসিক/ অনাবাসিক ?

উঃ অনাবাসিক।  নিজ আবাস থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়।

 

প্রশ্নঃ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সম্পর্কে বিসত্মারিত জানতে কার সাথে কথা বলতে হবে?

উঃ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়,সংশ্লিষ্ট উপজেলা।

 

প্রশ্নঃ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্তির আবেদন প্রক্রিয়া কি?

উঃ দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। অতঃপর ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির্ভুক্ত উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারে বরাবরে আবেদন করতে হয়।

প্রশ্নঃ আবেদনপত্রের সাথে কি কি জমা দিতে হবে?

উঃ ছবি,সকল সনদপত্র,নাগরিকত্বের সনদ,বেকারত্বের সনদ ইত্যাদির সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনপত্রের সাথে দিতে হবে।

 

প্রশ্নঃ সত্যায়িত বিষয়টি কি? কার কাছ থেকে কিভাবে ছবি বা কাগজ সত্যায়িত করাবেন?

উঃ সত্যায়িত বিষয়টি হচ্ছে সঠিকতা যাচাই। ১ম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার কর্তৃক যাবতীয় সনদপত্র সত্যায়িত করতে হবে।

 

প্রশ্নঃ লক্ষভুক্ত যুবদের বাছাই প্রক্রিয়া কি?

উঃ যুবদের নিকট থেকে আবেদন প্রাপ্তির পর অফিস পর্যায়ে তা পরীক্ষা করা হয়। আবেদনকারীদের উপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রয়োজনে যুবদের কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্যাদি যাচাইয়ের জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।

 

প্রশ্নঃ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা কি করবেন?

উঃ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে করণীয় জেনে নিবেন।

 

প্রশ্নঃ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি শরুর তারিখ জানবেন কিভাবে?

উঃ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার নোটিশ বোর্ড থেকে।

 

প্রশ্নঃ প্রশিক্ষণ কিভাবে শুরু হয়?

উঃ কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে প্রশিক্ষণ শুরুহয়। এজন্য নির্দিষ্ট রুটিন মেনটেন করা হয়।

প্রশ্নঃ প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন পদ্ধতি কি?

উঃ প্রশিক্ষণের নির্দিষ্ট রুটিন থাকে,নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্দিষ্ট  প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রশ্নঃ প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতা প্রদান প্রক্রিয়া কি?

উঃ প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতা  উপস্থিতির ভিত্তিতে মাস শেষে বিল করে  সহকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হয়ে থাকে । উল্লেখ্য কর্মভাতার বিলের অর্থ সংশ্লিষ্ট যুবকও যুবমহিলাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় এবং সেখান থেকে তারা কর্মভাতা উত্তোলন করেন ।

প্রশ্নঃ অস্থায়ী কর্মসংস্থান শেষে যুবরা কি করেন? তাদের জন্য সরকার কি চিন্তা ভাবনা করছেন?

উঃ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মসংস্থান শেষে নিজ উদ্যোগে কিছু করার চেষ্টা করেন। অন্যথায় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী লাভের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন । সরকার তাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির মূল্যায়ন পদ্ধতি কি?

উঃ কর্মসূচি মূল্যায়ন  করার জন্য তিনস্তর বিশিষ্ট সমন্বয় কমিটি রয়েছে ; যথা (১) কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি (২) জেলা সমন্বয় কমিটি ও (৩)উপজেলা সমন্বয় কমিটি। এছাড়া নিয়মিতভাবে কার্যক্রমের অগ্রগতি জানার জন্য নির্দিষ্ট রিপোর্টিং পদ্ধতি রয়েছে। এর বাইরে খ্যাতনামা সরকারী / বেসরকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা কর্মসূচির সামগ্রিক কার্যক্রম মাঝে মাঝে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির  মূল্যায়ন করা হয়েছে কি ? মূল্যায়ন হয়ে থাকলে মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কি ? মূল্যায়নের ফলাফল কি?

উঃ কর্মসূচির  মূল্যায়ন করা হয়েছে। বার্ড, কুমিল্লা ও আরডিএ, বগুড়া  মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পাদন করে। তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয় যে, এ কর্মসূচি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শিক্ষিত বেকার যুবদের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য এ কর্মসূচি এক মাইল ফলক। যুবক/ যুবমহিলা প্রশিক্ষণ বাছাই প্রক্রিয়া খুবই যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন এর সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির কর্মএলাকা ?

ন্যাশনাল সার্ভিস পাইলটিং কর্মসূচি (১ম পর্ব)

উঃ  কুড়িগ্রাম,বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলার সকল উপজেলা (মোট ১৯টি) এ কর্মসূচিভুক্ত । এসব জেলা ও উপজেলায় কর্মসূচির কার্যক্রম ২০০৯-১০ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হয়েছে। এ পর্বে মোট সুবিধাভোগী ৫৬০৫৪জন । কর্মসূচির মেয়াদপূর্তির পর সুবিধাভোগীদের মধ্য হতে ৩০২১ জন সরকারী- বেসরকারী কর্মসংস্থান এবং ২২৪৪৯জন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে নিয়েছে।

 

পাইলট কর্মসূচি-১ম পর্ব (কুড়িগ্রাম,বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলা)

 

 

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি ২০০৯-১০ অর্থবছরে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় শুরু হয় । ২ বছর পূর্তিতে তা সমাপ্ত হয়।

  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ মার্চ ২০১০ তারিখ কুড়িগ্রামে, ৬ মে ২০১০ তারিখ বরগুনা এবং ৩১ জুলাই ২০১০ তারিখ গোপালগঞ্জ জেলায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ।
  • ১ম পর্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে              :  ৫৬৮০১ জন যুব ( তন্মধ্যে যুবক: ৩৪০৫০; যুব নারী: ২২৭৫১ )।
  • কর্মে সংযুক্তি ৫৬০৫৪ জন               :   যুবক:৩৩৬০৩ জন;যুবনারী: ২২৪৫১ জন (যুব নারীর হার ৪০%)।
  • এ পর্বে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়   :   ৪৪.৩৮ কোটি টাকা।
  • কর্মভাতা প্রদান করা হয়                   :  ৭৪৯.৪২ কোটি টাকা।
  • মোট ব্যয় হয়                                :  ৮৪৮.২৬ কোটি টাকা।
  • সঞ্চয় ফেরত প্রদান করা হয়               :  ২৬৯.০৫ কোটি টাকা।
  • কর্মসংস্থান                                   :   ৩০২১ জন (৫.৩৯%)।
  • আত্মকর্মসংস্থান                              :   ২২৪৪৯ জন (৪০.০৫%)

 

 

 

২য় পর্ব (রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ব্যতীত  অবশিষ্ট ৭টি জেলার ৮টি উপজেলা)

২য় পর্বভুক্ত ৭টি জেলার ৮টি উপজেলা হচ্ছে,- পীরগঞ্জ ও কাউনিয়া (রংপুর), হাতিবান্ধা (লালমনিরহাট), ফুলছড়ি (গাইবান্ধা), ডিমলা (নীলফামারী), খানসামা (দিনাজপুর), হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) এবং পঞ্চগড় সদর (পঞ্চগড়)।

  • ২য় পর্বে কর্মসূচি শুরু হয়                         :  ২০১১-১২ অর্থবছর।
  • বাছাইকৃত যুবদের সংখ্যা  ছিল                  :  ১৬০৩৬ জন।
  • প্রশিক্ষণ শুরু হয়                                   :  ০১ মার্চ, ২০১৩।
  • প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী                               :  ১৪৫১৫ জন (যুবক ৮৯৩৮ জন; যুব নারী ৮১২৭ জন)|
  • অস্থায়ী কর্মে সংযুক্তিলাভ                        :  ১৪৪৬৭ জন (যুবক  ৮৮১৬ জন, যুব নারী ৫৬৫১ জন)।
  • প্রশিক্ষণ ভাতা                                      : ১০.৯৯ কোটি টাকা, কর্মভাতা- ১৮০.০০ কোটি টাকা।
  • উপকারভোগীদের ফেরতযোগ্য সঞ্চয় বিতরণ  : ৬৯.৪৪ কোটি টাকা।
  • পরিচালন ব্যয়সহ মোট ব্যয় হয়                  : ২২২.৪৫ কোটি টাকা।
  • কর্মসংস্থান                                           : ৭০৫ জন (৪.৮৭%), আত্মকর্মসংস্থান ৯৬৪১ জন (৬৬.৬৪%)|

 

৩য় পর্ব (১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলা)

৩য় পর্বভুক্ত ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলা হচ্ছে,- ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, শেরপুর জেলার শেরপুর সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, শরিয়তপুর জেলার গোসাইরহাট, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ, চাঁদপুর জেলার হাইমচর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, নাটোর জেলার সিংড়া, খুলনার তেরখাদা, বাগেরহাটের চিতলমারী, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, পিরোজপুরের কাউখালী, ঝালকাঠির নলছিটি এবং বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলা।  

  • ৩য় পর্বে প্রশিক্ষণ শুরু হয়         : ০১ এপ্রিল ২০১৫ ।
  • প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত                         : যুব ১৬৩৪২ জন  (যুবক ৮২১৫জন; যুবনারী ৮১২৭জন)।
  • অস্থায়ী কর্মসংযুক্তি                : ১৪৮০৩ জন ( যুবক: ৭৪৬৫জন; যুবনারী:৭৩৩৮জন )
  • ক: ৫০.৪৩% এবং যুবনারী: ৪৯.৫৭%)।
  • সংযুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে    : ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এ ।
  • ৩য় পর্বে প্রশিক্ষণ ভাতা           : ১১.২৫ কোটি টাকা; কর্মভাতা: ১৭৮.২৫ কোটি টাকা।
  • ফেরতযোগ্য সঞ্চয় বিতরণ       : ৭১.০৫ কোটি টাকা।
  • পরিচালন ব্যয়সহ মোট ব্যয়      : ১৯০ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।

৪র্থ পর্ব (০৭টি জেলার ২০টি উপজেলা)

৪র্থ পর্বভুক্ত ৭টি জেলার ২০টি উপজেলা হচ্ছে যথাক্রমে বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী, গৌরনদী, গৈলঝড়া, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জ; সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট; ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ সদর, ফুলপুর, তারাকান্দা, ধোবাউড়া ও ঈশ্বরগঞ্জ; রংপুর জেলার গংগাচড়া; শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ; জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর এবং পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর।

  • এ পর্বের প্রশিক্ষণ শুরু হয়                       :  ১ মার্চ ২০১৬ খ্রিঃ।
  • প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারীর সংখ্যা                    : ২৬৩৭৬ জন  (যুব ১৩৩৮৪ এবং যুবনারী ১২৯৯২ জন)।
  • অস্থায়ী কর্ম সংযুক্তি                              : ২৬৩৭৫ জন  (যুব: ১৩৩৮৪এবং যুবনারী ১২৯৯১ জন)।
  • ২ বছরের অস্থায়ী কর্ম-সংযুক্তির মেয়াদ পূর্তি :  ৩০ জুন ২০১৮ (১ম ধাপের ১৭১৬৮ জন) ।
  • ৪র্থ পর্বের কর্মসূচি সমাপ্ত                         :  ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখ ।
  • প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান                              :  ২০.০৪ কোটি টাকা।
  • কর্মভাতা প্রদান                                    :   ৩৮৪.০০ কোটি টাকা।
  • এ পর্যন্ত সঞ্চয় ফেরত প্রদান                      :   ৮২.৪০ কোটি টাকা।
  • পরিচালন ব্যয়সহ সম্ভাব্য মোট ব্যয়            :  ৪৫২.০৫ কোটি টাকা।

 

৫ম পর্ব (১৫টি জেলার ২৪টি উপজেলা)

৫ম পর্বভুক্ত ২৪ টি উপজেলা হচ্ছে ইন্দুরকানি (পিরোজপুর), ভোলা সদর, (ভোলা), কচুয়া, হাজীগঞ্জ, মতলব (দক্ষিণ) (চাঁদপুর জেলা); জাজিরা, শরিয়তপুর সদর, (শরিয়তপুর), বকশীগঞ্জ, জামালপুর সদর, মেলান্দহ (জামালপুর), জকিগঞ্জ সিলেট, আশাশুনি, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা), সাঘাটা, সাদুল্লাপুর, (গাইবান্ধা), ফুলবাড়িয়া, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ), তারাগঞ্জ (রংপুর), জুড়ি (মৌলভীবাজার), বরিশাল সদর (বরিশাল), নাইক্ষংছড়ি (বান্দরবান), রামগড়, মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি), বিলাইছড়ি (রাংগামাটি)।

  • এ পর্বে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত   : ৩৭১৪১ জন  (যুবক: ১৮৩৭৮ জন ও যুব নারী:১৮৭৬৩ জন) ।
  • প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু                 : ৩সেপ্টেম্বর ২০১৭ ।
  • এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী         : ৩১২৮৪  (যুবক:              জন ও যুব নারী:            জন )।
  • এ পর্যন্ত কর্মে সংযুক্তি                :  ৩১২৮৪ জন ( যুবক:         জন ও যুবনারী:          জন)।
  • এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ ভাতাবাবদ ব্যয়   :          কোটি
  • বর্তমানে প্রশিক্ষণরত                 :   ২৮৫০; প্রশিক্ষণের অপেক্ষমান ৩০০৭ জন
  • ৫ম পর্বে সম্ভাব্য ব্যয়                  : ৫৭৫.১৬ কোটি টাকা

৬ষ্ঠ  পর্ব (১৩টি জেলার ২০টি উপজেলা)

৬ষ্ঠ পর্বভুক্ত ২০টি উপজেলা নিম্নরুপ:  বদরগঞ্জ (রংপুর), গৌরীপুর (ময়মনসিংহ), পীরগাছা (রংপুর), নড়িয়া (শরীয়তপুর), শ্রীবর্দী (শেরপুর), নেছারাবাদ (সরুপকাঠি), ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর), রাজাপুর (ঝালকাঠি), শাহরাস্তি (চাঁদপুর), সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা), ডামুড্যা (শরীয়তপু্র), কয়রা (খুলনা), গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা), মিঠাপুকুর (রংপুর), তালা (সাতক্ষীরা), জৈন্তাপুর (সিলেট), লক্ষীপুর সদর (লক্ষীপুর), ত্রিশাল (ময়মনসিংহ), পাংশা (রাজবাড়ি) এবং কলারোয়া (সাতক্ষীরা)।

  • প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত              : ৫২১৮৮ জন  (যুবক ২৭০২৫ জন (৫২%) ও যুবনারী ২৫১৬৩ জন (৪৮%)।
  • প্রশিক্ষণ কার্যক্রম                        : ৩ডিসেম্বর ২০১৭  ।
  • এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ সমাপ্ত                 :  ২৮৭০৬ জন ।
  • এ পর্যন্ত অস্থায়ী কর্মে সংযুক্তি         :  ২৮৭০৬ জন।
  • বর্তমানে প্রশিক্ষণরত                    :  ৮৩৬২; অপেক্ষমান- ১৫১২০ জন।
  • ৬ষ্ঠ পর্বে সম্ভাব্য ব্যয়                    : ৭৮৫.৫৯ কোটি টাকা।

৭ম  পর্ব (১৩টি জেলার ২০টি উপজেলা)

৭ম পর্বের ২০টি উপজেলা হলো ,- পিরোজপুর সদর (পিরোজপুর), কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট), মতলব (উত্তর) ও ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর), নকলা (শেরপুর), সোনাগাজী (ফেনী) গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ি  (গাইবান্ধা), শরণখোলা, মোড়লগঞ্জ ও মোল্লারহাট (বাগেরহাট), সরিষাবাড়ি (জামালপুর), দেবহাটা ও সাতক্ষীরা সদর (সাতক্ষীরা), গোদাগাড়ি (রাজশাহী), মুরাদনগর ও নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা), আজমিরিগঞ্জ (হবিগঞ্জ), বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ), নাগরপুর (টাঙ্গাইল)।

  • এ পর্বে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত : ২৯৯৬৫ জন ( যুবক: ১৪৭১৯ জন (৪৯.%) ও যুবনারী ১৫২৪৬ জন (৫১%)।
  • প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু               : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ।
  • এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ সমাপ্ত             : ১৯৯৬১ জন।
  • এ পর্যন্ত কর্মসংযুক্তি প্রদান         : ১৯৯৬১ জন।
  • অপেক্ষমান                           :  ৪৯২৭ জন।
  • এ পর্বের সম্ভাব্য ব্যয়                : ৪৭২.২৬ কো.টি টাকা।

রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ছাড়া বাকী ৭টি জেলার ৮টি উপজেলা (২য় পর্ব):

রংপুর বিভাগের বাকী ৭টি জেলার ৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি ২০১১-১২ অর্থ বছরে শুরুহয়। ১ম  পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে এ পর্যায়ে প্রকৃত বেকার যুবদের কর্মসূচিতে অমত্মর্ভূক্তির জন্য তাদের বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যথাক্রমে ২৪-৩৫ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব পুনঃনির্ধারণ করা হয়। ৭টি জেলার ৮টি উপজেলা হচ্ছে-পীরগঞ্জ ও কাউনিয়া (রংপুর), হাতিবান্ধা (লালমনিরহাট), ফুলছড়ি(গাইবান্ধা),  ডিমলা (নীলফামারী), খানসামা(দিনাজপুর), হরিপুর  (ঠাকুরগাঁও) ও পঞ্চগড় সদর (পঞ্চগড়)। বাছাইকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৪টি ধাপে ১৪৫১৫ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং ১৪৪৬৭ জন অস্থায়ী কর্মে সংযুক্তিলাভ করেছেন। তন্মেধ্যে যুবক সংখ্যা ৮৮১৬ এবং যুবমহিলা সংখ্যা ৫৬৫১ জন। ফেব্রম্নয়ারী ২০১৬-এ এ পর্বের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়েছে। সুবিধাভোগীদের মধ্য হতে এ যাবত প্রায় ৭০৫ জন সরকারী-বেসরকারী কর্মসংস্থান এবং  ৯৬৪১ জন আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ করে নিয়েছে।

 

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মর্সূচি ৩য় পর্বঃ

মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক দারিদ্র্য ম্যাপ-২০১০( যা সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে প্রকাশিত) অনুসারে ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলায়,যেমন- ময়মনসিংহ (নান্দাইল),জামালপুর (দেওয়ানগঞ্জ), শেরপুর (শেরপুরসদর),রাজবাড়ী (গোয়ালন্দ), শরিয়তপুর (গোসাইরহাট), কুমিল্লা (মনোহরগঞ্জ), চাঁদপুর (হাইমচর), বান্দরবান (থানচি), সিরাজগঞ্জ (চৌহালী), নাটোর (সিংড়া), খুলনা (তেরখাদা), বাগেরহাট (চিতলমারী), সাতক্ষীরা(শ্যামনগর), মাগুরা (মোহাম্মদপুর),বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ),পিরোজপুর (কাউখালী), ঝালকাঠি (নলছিটি)-এ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলমান। এ পর্বে ১৪৯২৬ জন প্রশিক্ষাণার্থীর মধ্যে ১৪৮০৩ জন ২ বছরের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানে নিয়োজিত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রয়ারী ২০১৮ এ পর্ব সমাপ্ত  হয়েছে ।

 

 ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মর্সূচি ৪র্থ পর্বঃ  

দারিদ্র্য ম্যাপ-২০১০ অনুসারে উপজেলার দারিদ্রে্যর আধিক্য অনুযায়ী ৭টি জেলার ২০টি উপজেলা, যথাক্রমে- বরিশাল জেলার হিজলা,মুলাদী,গৌরনদী, অগৈলঝড়া, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ,বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জ; সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট; ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ সদর,ফুলপুর, তারাকান্দা, ধোবাউড়া, ঈশ্বরগঞ্জ; রংপুর জেলার গংগাচড়া; শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ; জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর এবং পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর। এ পর্বে মোট বাছাইকৃত সংখ্যা  ২৭০০২ জন । ২৬৩৭৬ জন প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে ২ বছরের জন্য  অস্থায়ী কর্মসংস্থানে নিয়োজিত হয়েছে ।  এ পর্বে যুব সংখ্যা ১৩৩৮৪ জন ও যুব মহিলা ১২৯৯২ জন। ইতোমধ্যে গত ৩০ জুন এ পর্বের ১ম ধাপের ১৭১৬৮ জনের ২ বছরের অস্থায়ী সংযুক্তি সমাপ্ত হয়েছে।

 

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মর্সূচি ৫ম পর্বঃ

মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি ৫ম পর্বের কার্যক্রম ১৫টি জেলার ২৪টি উপজেলায় বাস্তবায়ন শুরুহয়েছে। কর্মসূচিভুক্ত এলাকা (উপজেলাগুলো হলো- যথাক্রমে ইন্দুরকানি পিরোজপুর; ভোলা সদর,ভোলা;কচুয়া, হাজীগঞ্জ, মতলব (দক্ষিণ) চাঁদপুর; জাজিরা, শরিয়তপুর সদর, শরিয়তপুর; বকশীগঞ্জ, জামালপুর সদর, মেলান্দহ,জামালপুর;জকিগঞ্জ, সিলেট; আশাশুনি, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা;সাঘাটা,সাদুলস্ন্যাপুর,গাইবান্ধা;ফুলবাড়িয়া, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ; তারাগঞ্জ, রংপুর; জুড়ি, মৌলভীবাজার; বরিশাল বরিশাল; নাইক্ষংছড়ি, বান্দরবান; রামগড়, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি; বিলাইছড়ি, রাংগামাটি)। কর্মসূচির সুবিধাভোগী বাছাইয়ের জন্য সংবাদপত্রে দরখাস্ত আহবান করার পরিপ্রেক্ষিতে ৫১৩২০ টি আবেদন যায়। তন্মধ্যে প্রাথমিক বাছাইয়ের ৩৭৫৮৮ জন যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। এ পর্যন্ত এ পর্বের মোট ৩১২৮৪ জন প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করত: অস্থায়ী সংযুক্তিতে নিযুক্ত হয়েছে । বতৃমানে ২৮৫০জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।

 

প্রশ্নঃ উপকারভোগীর সংখ্যা?

উঃ ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্বে মোট ১৯৩৯৮৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তন্মেধ্যে  ১৯১৬৫০ জনকে অস্থায়ী কর্মে সংযুক্তি প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ পর্বের ১০২৪৯২ জনের ২ বছরের অস্থায়ী সংযুক্তি সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে ৮৯১৫৮ অস্থায়ী কর্মে নিয়োজিত আছে।

 

প্রশ্নঃ অস্থায়ী কর্মসংস্থান শেষে যুবদের আত্মকর্মসংস্থানে  নিয়োজিত হওয়ার প্রবণতা কতটুকু ?

উঃ এ পর্যন্ত কর্মসমাপনকারী যুবদের মধ্যে  ১০২৪৯২ জনের অস্থায়ী কর্মসংযুক্তি সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে ৮৯১৫৮ জন অস্থায়ী সংযুক্তিতে আছে। ১ম, ২য় ও ৩য় পর্বের মোট ৫৫৯১ জনের কর্মসংস্থান ও ৩৭৪২৩ জনের অস্থায়ী কর্মসংস্থান, মোট ৪৩০১৪ জনের কর্মসংস্থান ও অস্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে। কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের হার যথাক্রমে ৫.২৮ ও ৪৫.৪৭।

প্রশ্নঃ সরকারী অর্থের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু ?

উঃ

শুরু থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত বরাদ্দ

২০৩৩ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা।           

শুরু থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত খরচ

১৮৭৩ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা।                      

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের মোট বরাদ্দ

৬৬৯.৬১ কোটি টাকা।

প্রশ্নঃ কর্মসূচির ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির নীতিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এ কর্মসুচি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারিত হবে । উল্লেখ্য দারিদ্র্যম্যাপ অনুসরণে দারিদ্রের তীব্রতার ক্রমানুসারে মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক এ কর্মসূচির উপজেলা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে । মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধামত্মক্রমে এ কর্মসূচির পরবর্তী পর্বের কার্যক্রম শুরুহবে।

 

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সেল

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

২৬ জুলাই ২০১৮


Share with :

Share with :

Facebook Facebook